প্রথম দিকে অর্থাৎ জানুয়ারী ২০০৯ এর দিকে ভালই যাচ্ছিল। প্রথম দিকে নতুন বাসায় উঠলাম। কিন্তু নেট ছিল না। নেট অনেকদিন ভুগিয়ে এর পর আসল। আস্তে আস্তে ভালই চলছিল। এর পর দীর্ঘ ১ বছরের কাজটাও হারালাম একজনকে রক্ষা করতে গিয়ে। ব্যস বেকার জীবন শুরু হল। বছরের শুরুতেই ধাক্কা।
ক্লাশ ভালই চলছিল।নতুন সেমিস্টার নতুন টিচার।কিন্তু পুরোনো বন্ধুদের পেলাম না (বিশেষ করে বান্ধবীকে)। এই সেমিস্টারে সবচেয়ে কম ক্লাশ করলাম এবং দেরীতে এসাইনমেন্ট ও পরীক্ষা দিয়েও সফলতার সহিত পাশ করে গেলাম। কিন্তু সমস্যায় ভুগছিলাম আর সেটা হল ডিপ্রেশন। দারুন ডিপ্রেশনে ভুগেছি। একে তো ছ্যাকা তার উপর কাজ নেই। বেকার। মালিকের কাছে বেশ কিছু টাকা জমা ছিল ঐ দিয়েই প্রথম দিকে সফলতার সহিত চলাচল করতে লাগলাম।এর পর দীর্ঘ ৯ মাস বেকার জীবন কাটালাম। খুব একটা সমস্যা হয় না। বছরের শেষে মনে হল বেকার জীবনই ভাল ছিল।
এ বছরই ডিপ্রেশনে ভুগেছি সবচেয়ে বেশী। পড়ালেখা মাঝখানে বন্ধ করে দিয়েছি। কিন্তু বছর শেষের দিকে মনে হল ভুল করেছি। তাই নতুন বছরে আবার শুরু করছি মনযোগ দিয়ে লেখাপড়া। এছাড়া অনেকবার দেশে যেতে চেয়েছি কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর যাওয়া হল না। তাই আবারো ডিপ্রেশনে ভুগেছি।
এবছরই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিজ্ঞাপন তৈরী করেছি। একটি নাটকের কাজ শুরু করেও নায়িকা সংক্রান্ত সংকটে আর শেষ করতে পারলাম না। অবশ্য অল্প কিছু শুটিং করা হয়েছিল। অবশ্য এতে আমার ওয়ার্মআপটা ভালই হয়েছে। বেশ কিছু ভুল চোখে পড়েছে। আশা করছি নতুন বছরে নাটকটি শেষ করতে পারব। এছাড়া ছোটখাট বিজ্ঞাপন তৈরী করেছি। তবে অর্থনৈতিকভাবে তেমন লাভবান হতে পারিনি।
এবছরই রেডিওগুনগুনের প্রভুত উন্নতি করেছি। প্রথম দিকেই শেয়ার্ড হোস্টিং থেকে ভিপিএসে চলে গিয়েছি। নতুন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি। এর পর ২৬ মার্চ ২০০৯ টেস্ট ট্রান্সমিশন থেকে সম্পূর্ণ সম্প্রচারে চলে গিয়েছি। এ বছরই প্রথম আলোতে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল এবং ঐ দিন একই সাথে সর্বোচ্চ ১৯১ জন শ্রোতা রেডিওগুনগুন শুনেছে। বেশ কয়েকদিন ভালই শ্রোতা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় নিয়মিত অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়নি। এবছরই আরজে’র ভুমিকায় বেশ কয়েকদিন লাইভ প্রোগ্রাম করেছিলাম। মাঝখানে ভিপিএসে সমস্যার কারণে ভিপিএস থেকে ডেডিকেট সার্ভার নিলাম এবং আরো বড় কিছুর চিন্তা করতে লাগলাম। বছরের শেষের দিকে ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার স্টুডিও থেকে টেস্ট ট্রান্সমিশন শুরু করল রেডিওগুনগুন। আশা করছি পরের বছর রেডিওগুনগুনএর উন্নতি এর চেয়ে ১০গুণ বেশী হবে। নতুন নতুন অনেক ধারণা নিয়ে আসছে রেডিওগুনগুন। অপেক্ষায় থাকলাম সেই দিনগুলোর।
বেশ কয়েকটি ওয়েব সাইট তৈরী করলাম এই বছর। যদিও ওয়েব প্রোগ্রামিং এর তেমন কোন উন্নতি করতে পারি নাই। অবশ্য প্রায় ৫ বছর পর ভিজুয়্যাল বেসিক ধরেছি। এছাড়া তেমন কোন সাফল্য নেই। তবে টুকটাক কাজ করে কিছু পয়সা করতে পেরেছি।
এবছর প্রচুর মুভি দেখেছি (ঘরে বসে ছিলাম তাই)। এর মধ্যে ভারতীয় বাংলা সিনেমা আমাকে মুগ্ধ করেছে। ওদের ফ্যান হয়ে গেছি। এছাড়া দেখেছি ভারতীয় হিন্দী সিনেমা, ইংরেজীও উল্লেখযোগ্য এবং অন্যান্য বছরের চেয়ে বেশী আর বাংলা সিনেমাও দেখেছি। বছরের শেষে থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার হলে গিয়ে দেখার ইচ্ছা থাকলেও সময়ের অভাবে দেখতে পারলাম না। এবছরই সবচেয়ে বেশী সময় ঘরে বসে কাটিয়েছি এবং ল্যাপটপের ১৪টা বাজিয়েছি। তবে বছরের শেষের দিকে এসটা ডিএসএলআর কেনার শখ থাকলেও সাধ্যের কারণে কিনতে পারলাম না। আশা করি আগামী বছর কিনব।
এবছরই এ দেশ ছেড়ে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোন ফলাফল এল না। আশা করি পরবর্তি বছর আর এদেশে কাটাতে হবে না। ৩টি দেশে কাটানোর ইচ্ছা আছে এবং বেশী সময় মাতৃভূমিতে কাটানোর ইচ্ছা আছে।
এবছর অনেক কিছুরই আশা ছিল কিন্তু কোনটাই পূরণ হল না। তাই আশা অপূর্ণতার বছর বলা যায়।সব মিলিয়ে ২০০৯ আমার খুবই বাজে কেটেছে। ছোটখাট সফলতা ছাড়া আর কিছুই হয়নি। আশা করি ২০১০ সাল আসবে আমার কাছে নতুন ভাবে নতুন রংএ এবং অনেকগুলো আশার মধ্যে কয়েকটি পূরণ হবে।তাই ২০১০ কে বরণ করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।


ডিসেম্বর 30th, 2009
11:49 pm
Posted in
Tags: 
