মূল লেখক : কাওছার শাকিল (প্রথম আলো)
লেখাটা পড়ে ভাল লাগল। তাই ভাবলাম আপনাদের সাথে শেয়ার করি।
প্রযুক্তির কল্যাণে সবার ঘরে ঘরে নয়, একেবারে হাতে হাতে পৌঁছে গেছে যোগাযোগ। মুঠোফোন যদিও হাতের মুঠোয় মুঠোয় পৌঁছে গেছে, কিন্তু সমস্যা হলো আমরা বেশির ভাগই এটি ব্যবহারের আদবকায়দা সম্পর্কে জানি না। প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে, দিনে-রাতে কেবল মোবাইল ফোনে কথা বলতে উত্সাহিত করা আমাদের দেশের মোবাইল ফোন সেবাদাতা কোম্পানিগুলোও এ সম্পর্কে তেমন কোনো পরামর্শ দেয় না। তবে ইন্টারনেট ঘেঁটে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইটে মোবাইল ফোন ব্যবহারের আদবকেতা নিয়ে অনেক বয়ানই পাওয়া গেল। তা থেকেই কিছুটা এখানে তুলে ধরা।
ধরুন, আপনি আছেন একটা সেমিনারে। হঠাত্ বেজে উঠল মুঠোফোন। এখন আপনি যদি হোমরাচোমরা কেউ হন, তাহলে হয়তো কেউ কিছু বলবে না। কিন্তু মনে রাখতে হবে, ভদ্রতার কোনো মা-বাপ, বস-কর্মচারী নেই। আপনি যে-ই হন না কেন, মিটিংয়ে ঢোকার আগে অবশ্যই মুঠোফোনটা বন্ধ করে নিন। না পারলে অন্তত নীরব করে রাখুন। তবে ফোন শুধু নীরব করাই নয়, সভার মাঝখানে যদি ফোন আসে, তাহলে সেটা না ধরাই ভালো। জরুরি কথা যদি বলতেই হয়, তাহলে সহকর্মীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে অতিসংক্ষেপে কথা সেরে ভেতরে আসুন। আর এ ভদ্রতা শুধু অফিস কিংবা সভা-সেমিনারের জন্য নয়, সিনেমা হল, সামাজিক অনুষ্ঠানস্থল কিংবা রেস্তোরাঁর মতো জায়গায়ও ধরে রাখা উচিত।
সেদিন একটা ঘটনা চোখে পড়ল বাসের ভেতর। ভিড়ে বাসে দাঁড়ানোর জায়গা পর্যন্ত নেই। গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। এর মধ্যে বাসের এক মাথা থেকে ভেসে আসছিল আলাপন, ‘দিমুনে, ভাই, আমি দিয়া দিমুনে, আমনে অক্করে চিন্তাই কইরেন না…।’ যিনি মুঠোফোনে কথা বলছিলেন, তিনি বসেছিলেন বাসের একেবারে প্রথম সারিতে। আর তাঁর কথা শুনতে পাচ্ছিলেন একেবারে শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটাও। সারা বাসের লোকজন বিরক্ত হয়ে তাকাচ্ছে বারবার। অথচ মানুষটার কোনো বিকার নেই। খুব বলতে ইচ্ছা হলো, আরেকটু জোরে বলেন না ভাই, তাহলে তো আর মোবাইলটা লাগে না, এমনিই কথা শুনতে পাবে।
ইদানীং এক রকম মোবাইল ফোন পাওয়া যায়, যেটা মোটেই মুঠোয় আটে না। হাতের পাঞ্জার সমান গোবদাগাবদা এসব সেটের বোতাম চাপলেই শুরু হয়ে যায় গান। বাসের ভেতর প্রায়ই এ রকম দু-একজন সংগীতপ্রেমীর দেখা মেলে, যাঁরা নিজেরা তো গান শোনেনই, অন্যদেরও শুনিয়ে ছাড়েন। তাও যদি শ্রবণযোগ্য ভালো গান হতো! সংগীতের প্রতি তাঁদের এই অদম্য প্রেম যে অন্য সবার বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে, সেটা যেন বুঝতেই পারেন না। মোবাইল ফোনের বেসুরো ও জোরালো রিংটোনগুলোও যে অন্যের বিরক্তির কারণ, এটা বোঝা তো তাঁদের আয়ত্তেরই বাইরে।
মোবাইল ফোনের বিরক্তি উদ্রেক করা আরেকটা জিনিস আছে। সেটা হচ্ছে ক্যামেরা। কেউ কেউ আদবকায়দার ধার না ধেরে করছেন এর অপব্যবহার। বিশেষ করে লুকিয়ে লুকিয়ে মেয়েদের ছবি তোলার জন্য এ জিনিস ব্যবহূত হচ্ছে খুব বেশি।
কেউ কেউ আছেন, মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় একেবারে খেই হারিয়ে ফেলেন। সবার সামনেই জুড়ে দেন তর্ক; গালাগাল করে খুইয়ে ফেলেন নিজের সম্মান। সে জন্য সব সময় খেয়াল রাখতে হয়, মুঠোফোনে আপনি যখন কথা বলছেন, তখন আপনার আশপাশে কেউ আছে কি না। খুব কাছাকাছি কেউ থাকলে সংযত হয়ে কথা বলুন। দয়া করে সবার সামনে মুঠোফোনে প্রেমালাপ করতে যাবেন না। আরেকটা কথা, যখন বন্ধু-বান্ধব কিংবা আপনজনের সঙ্গে থাকবেন, তখন দয়া করে মুঠোফোনে লম্বা আলাপ শুরু করে দেবেন না। কেননা এতে করে আপনার পাশে থাকা মানুষটার মনে হতে পারে, আপনি তাকে অবহেলা করছেন। আপনজনদের দূরে ঠেলে দেওয়ার জন্য নয়, বরং তাদের কাছে ধরে রাখার জন্য মুঠোফোন ব্যবহার করুন।
সূত্র : প্রথম আলো


অক্টোবর 25th, 2009
4:38 pm
Posted in
Tags: 

ভাল লাগেলা।